
ডাঃ নিহার রঞ্জন রায়
ডি.এইচ.এম.এস (ঢাকা)
বি.এ (অনার্স) এম.এ.
চেয়ারম্যান,
স্বজন ফাউন্ডেশন
৪৬, খানজাহান আলি রোড, খুলনা
জনাব নিহার রঞ্জন রায় ১৯৬২ সালের ৫ই জুলাই খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার কায়েমখোলা হুলা গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। তার পিতার নাম দুলাল কৃষ্ণ রায় এবং মাতার নাম চপলা বালা রায়। তিনি পানখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করে পরে চালনা কে.সি হাইস্কুলে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন। পরে খুলনা জিলা স্কুলে ৯ম শ্রেণিতে ভর্তি হন। ১৯৭৮ সালে খুলনা জিলা স্কুল থেকে কৃতিত্বের সাথে এস.এস.সি পাশ করেন। দৌলতপুর সরকারি ব্রজলাল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে বি.এ (সম্মান) ও এম.এ ডিগ্রী অর্জন করেন।
১৯৮৮ সালে তিনি গ্রামীণ ব্যাংক প্রবেশনারি অফিসার হিসাবে যোগদান করেন। তিনি পরে সিনিয়র অফিসার হিসাবে বাংলাদেশের ৭টি গ্রামীণ ব্যাংকের শাখাতে ব্যবস্থাপক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে প্রোগ্রাম অফিসার (প্রিন্সিপাল অফিসার) হিসাবে গ্রামীণ ব্যাংকের ৩টি এরিয়া তে কাজ করেন। ২০০৬ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের ২টি এরিয়াতে আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক (সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার) হিসাবে কৃতিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের মত নোবেল বিজয়ী প্রতিষ্ঠানের একজন গর্বিত কর্মী।
২০১৭ সালে তিনি খুলনা হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ থেকে ৪ বছর মেয়াদী ডি.এইচ.এম.এস কোর্স সম্পন্ন করে বর্তমানে চিকিৎসক হিসাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। ২০১৫ সাল থেকে তিনি সেবার ব্রত নিয়ে স্বজন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে জড়িত হন এবং প্রতিষ্ঠানটি সঠিক ভাবে পরিচালনার জন্য চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পান এবং বর্তমানে উক্তপদেই অধিষ্ঠিত আছেন।
গ্রামীণ ব্যাংকের মত একটি নোবেল বিজয়ী প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ সময় কাজ করার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে স্বজন ফাউন্ডেশনকে তিনি প্রকৃতপক্ষে জনগনের সেবায় নিয়োজিত করার লক্ষ্যে উপযুক্ত ভাবে পরিচালনা করার দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন। সৃষ্টিকর্তা সহায় থাকলে উক্ত প্রতিষ্ঠানটিকে তিনি জনসেবার অগ্রদূত হিসাবে গড়ে তুলবেন।

নির্বাহী পরিচালক এর
জীবন বৃত্তান্ত
বাল্য জীবনঃ-
মোঃ হুমায়ুন কবীর ১৫ অক্টোবর ১৯৬৩ খ্রীঃ তৎকালীন ময়মনসিংহ জেলার ভৈরব বাজার থানায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। বাবা মরহুম মির্জা আবু তালেব পুলিশ অফিসার হিসাবে পুলিশ বিভাগে কর্মরত ছিলেন। মা- মরহুমা আছিয়া খাতুন একজন সু-গৃহিনী ছিলেন। সাত ভাই বোনের মধ্য তিনি ৪র্থ সন্তান। বাবার সরকারী চাকুরীতে বদলীর সুবাদে দেশের বিভিন্ন জেলায় বসবাসের সুযোগ হয়েছে।
শিক্ষা জীবনঃ-
প্রাইমারী জীবন সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা উপজেলায় হলেও তালা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়- সাতক্ষীরা, আট্টাকা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়- ফকির হাট থানা, বাগেরহাট জেলা ও সরকারী মুহসীন প্রাথমিক বিদ্যালয়-দৌলতপুর, খুলনা জেলায় এসে সমাপ্তি ঘটে। মাধ্যমিকে পড়াশুনা শুরু হয় তৎকালীন মুহসীন হাইস্কুল (বর্তমানে সরকারী) দৌলতপুর, খুলনা এবং সেনহাটী মাধ্যমিক বিদ্যালয় (বর্তমানে সরকারী) থেকে ১৯৭৮ সালে বাণিজ্য বিভাগে বিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হয়ে মাধ্যমিকের শিক্ষা জীবন শেষ করেন। পরবর্তীতে উচ্চ মাধ্যমিক ও অনার্স (একাউন্টিং) সরকারী ব্রজলাল কলেজ (বি,এল) দৌলতপুর, খুলনা থেকে ১৯৮৩ সালে শেষ করেন এবং ১৯৮৪ সালে রাজশাহী বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষা জীবনের সমাপ্তি টানেন।
ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনঃ-
স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তান নিয়ে তার পারিবারিক জীবন। স্ত্রী ইশরাত শাহীন বি,এ (অনার্স) এম,এ, বি,এড, ও ডি,এইচ,এম,এস এবং এন.টি.আর.সি ধারী একজন বিদ্যুষী মহিলা। তিনি আসমা সারোয়ার মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় (বর্তমান নাম সেনহাটী বালিকা বিদ্যালয়) এ সহকারী শিক্ষিকার দায়িত্ব বিদ্যালয়ের জন্মলগ্ন থেকে ২০০৬ সাল পর্য়ন্ত পালন করেছিলেন। একই সাথে আসমা সারোয়ার শিশু একাডেমীতে প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব পালন করেন। বড় সন্তান সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস চূড়ান্ত বর্ষের ছাত্রী এবং ছোট মেয়ে সরকারী পাইওনিয়র কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ২০২২ সালের এইচ,এস,সি পরীক্ষার্থী।
কর্মজীবন ও অতিরিক্ত শিক্ষা বৃত্তিঃ-
ক) ১৯৮৮ সালের ২ জুলাই নোবেল বিজয়ী আর্থিক প্রতিষ্ঠান গ্রামীন ব্যাংকে প্রবেশনারী অফিসার হিসাবে যোগদান করেন। দেশের বিভিন্ন জেলায় তথা সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, খুলনা, বাগেরহাট, যশোর, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলায় ব্রাঞ্চ ম্যানেজার, প্রোগ্রাম অফিসার ও এরিয়া ম্যানেজার (প্রেন্সিপাল অফিসার- এস,পি ও গ্রেড) হিসাবে দীর্ঘ ১৯ বছর দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০০৭ সালের ২৭ শে জুলাই সেচ্ছায় অবসর গ্রহন করেন। ব্যাংকে চাকুরীরত অবস্থায় ১৯৯২ সালে ডিপ্লোমা-ই-ব্যাংকিং সম্পন্ন করেন এবং ২০০৫ সালে (কলেজ পর্যায়ে ১ম) বেসরকারী শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হন।
খ) ২০০৮ সালে নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও Public Health এর যৌথ ভাবে পরিচালিত স্বনামধন্য ডানিডা’র DANIDA HYSWA প্রজেক্টে উপজেলা সোসিও ইকোনোমিস্ট হিসাবে এবং ২০০৯ সালে ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলায় Public Health এবং উন্নয়ন সংগঠক DANIDA যৌথ ভাবে পরিচালিত HYSWA প্রজেক্টে উপজেলা কো-অর্ডিনেটর হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।
গ) ২০১০ সালের ৩০ শে মার্চে আলহাজ্ব সারোয়ার খান ডিগ্রী কলেজ, সেনহাটী, দিঘলিয়া খুলনাতে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে অনার্স কোর্সের প্রভাষক হিসাবে যোগদান করে অদ্যাবধি বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করে অসছেন। শিক্ষা কার্যক্রমের অত্যাবশ্যকীয় বিষয় BANBEIS কর্তৃক পরিচালিত ICT Training Course for Teacher’s এর Basic Course সহ উচ্চতর কোর্স সমূহের ৩০ দিন, ১৫ দিন, ও ৬ দিন ব্যাপী বিভিন্ন প্রশিক্ষনে কোর্স অংশ গ্রহন করেন। কলেজের অনার্স কোর্সের সাহিত্য বিষয়ক দেয়াল পত্রিকা “ নিত্য কথা নৃত্য” এর সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করে অসছেন।
ভেষজ চিকিৎসায় দক্ষতা অর্জনের জন্য ২০১৩ সালে খুলনা ইউনানী কলেজে ভর্তি হন। কিন্তু বিভিন্ন ব্যস্ততায় কোর্স টি সমাপ্ত করতে পারেননি। কলেজে অধ্যাপনার পাশাপাশি ডিপ্লোমা-ইন-হোমিওপ্যাথি মেডিসিন এন্ড সার্জারী (ডি.এইচ.এম.এস) ২০১৫ সালে সমাপ্ত করে সেনহাটী বাজারে হোমিওপ্যাথির মাধ্যমে প্রাকৃতিক ভেষজ চিকিৎসায় নিজেকে নিয়োজিত রেখে মানবতার সেবা করে যাচ্ছেন।
দেশ-বিদেশ ভ্রমনঃ–
দেশের মাত্র কয়েকটি জেলা ব্যতীত সমগ্র বাংলাদেশের ঐতিহাসিক, ধর্মীয় পূন্য ভূমি ও ভৌগলিক সমৃদ্ধ স্থান ভ্রমন করেছেন। সৌদি আরবের মক্কা-মদিনায় ধর্মীয় ব্রত পালন ও ভারতে একাধিক বার ভ্রমন করে ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় পূন্য স্থান সমূহ দর্শন করে পৃথিবীর সৌন্দর্য্য উপভোগের মাধ্যমে নিজেকে সমৃদ্ধ করেছেন।
স্বজন ফাউন্ডেশন এর সূতিকাগার
মানবতার সেবাকে মনে প্রানে ধারন করে স্বজন ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে ২০১১ সাল থেকে বিভিন্ন বন্ধু-বান্ধবকে DHMS কোর্স সম্পন্ন করার জন্য অনুপ্রানিত করেন এবং প্রাং ১৬ জন DHMS পাশ করে পরিবার ও সমাজে হোমিও সেবা দিয়ে আসছেন। কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের মাধ্যমে গ্রামে গ্রামে নিজস্ব উদ্যোগে ব্লাড প্রেসার, ডায়াবেটিস, ব্রেষ্ট টিউমার সহ অন্যান্য রোগের সচেতনামূলক কর্মসূচী চালিয়ে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালের জুলাই মাসে স্বজন ফাউন্ডেশন SWAJAN FOUNDATION ( Surrounding Welfare Affairs Just Attend to Neighbours ) সমাজ সেবা অধিদপ্তর খুলনা জেলা অফিস থেকে রেজিষ্ট্রেশন প্রাপ্ত হয়। রেজিষ্ট্রেশন নং- খুলনা ১৫২৯/১৫।
পরিশেষেঃ-
সেনহাটী বাজার (কলেজ মোড়), দিঘলিয়া খুলনাতে “ আছিয়া আবু তালেব মেমোরিয়াল হোমিও হল” স্বজন ফাউন্ডেশন এর একটি উদ্যেগ এ প্রতিষ্ঠানে ব্লাড প্রেসার স্থল ও দূর্বল (অতি ওজন ও কম ওজন) ব্যাক্তিদের বিনা মূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পরামর্শ দেয়া হয়। সপ্তাহের প্রতি শুক্রবার হতদরিদ্র রোগীদের ফ্রি চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। হত দরিদ্র ও অতি নিম্নবিত্ত পরিবারের প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষায়ক বিভিন্ন বই ও শিক্ষা সহায়ক সামগ্রি তথা খাতা-কলম এ ফাউন্ডেশন প্রদান করে থাকে।
পরিবারের সংকীর্ণতাকে উপেক্ষা করে মানব সেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে “ ভালো কিছু নিয়ে আপনার পাশে – স্বজন”– এই স্লোগান ধারন করে সামনের দিকে এগিয়ে নিচ্ছেন এই ফাউন্ডেশনকে।
